সহজে গাড়ি চালানো শিখুন: নতুনদের জন্য এ টু জেড গাইড (২০২৬)
সহজে গাড়ি চালানো শিখুন: নতুনদের জন্য এ টু জেড গাইড (২০২৬)
আমি জানি, প্রথমবার স্টিয়ারিং হুইল ধরার অভিজ্ঞতা কতটা রোমাঞ্চকর এবং একই সাথে ভয়ের হতে পারে। ২০২৬ সালে এসে প্রযুক্তির অনেক উন্নতি হলেও গাড়ি চালানো (Driving) শেখার মৌলিক বিষয়গুলো একই রয়েছে। আপনি যদি ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় নিজের গাড়ি নিয়ে বের হতে চান, তবে আপনার জন্য সঠিক গাইডলাইন থাকা অত্যন্ত জরুরি। আজকের এই পেজে আমি আপনাকে দেখাব কীভাবে আপনি খুব অল্প সময়ে এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে কার ড্রাইভিং (Car driving)শিখতে পারেন।
- ১. গাড়ি চালানোর প্রাথমিক ধারণা ও প্রস্তুতি
- ২. বিআরটিএ লার্নার লাইসেন্স আবেদন পদ্ধতি
- ৩. অটো গিয়ার গাড়ি চালানোর নিয়ম
- ৪. ম্যানুয়াল গিয়ার গাড়ি চালানোর নিয়ম
- ৫. ট্রাফিক সিগন্যাল ও রাস্তার নিয়মাবলী
- ৬. সহজে গাড়ি চালানো শেখার উপায় ও টিপস
- ৭. নতুনদের জন্য বিশেষ ড্রাইভিং টিপস
- ৮. ড্রাইভিং লাইসেন্স করার পদ্ধতি বাংলাদেশ
- ৯. ড্রাইভিং শেখা: প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার গাইড
- ১০. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. গাড়ি চালানোর প্রাথমিক ধারণা ও প্রস্তুতি
আমি মনে করি, চাকা ঘোরানোর আগে গাড়ির প্রতিটি যন্ত্রাংশ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। আপনি যখন গাড়ি চালানো (Driving) শুরু করবেন, তখন আপনার প্রথম কাজ হলো সিটে বসে আয়নাগুলো অ্যাডজাস্ট করা। আপনার পেছনের এবং দুই পাশের ভিউ আয়নায় পরিষ্কার না দেখা গেলে রাস্তায় বিপদ হতে পারে। ড্যাশবোর্ডের বিভিন্ন মিটার যেমন স্পিডোমিটার, ফুয়েল গেজ এবং টেম্পারেচার মিটার সম্পর্কে জানাও গাড়ি চালানোর প্রাথমিক ধারণা এর অংশ। আমি সবসময় বলি, গাড়ি চালানো মানে শুধু স্টিয়ারিং ধরা নয়, এটি হলো গাড়ির সাথে একটি সংযোগ তৈরি করা।
প্রস্তুতির দ্বিতীয় ধাপে আসে সিটবেল্ট বাঁধা এবং বসার ভঙ্গি ঠিক করা। নতুন ড্রাইভারদের মধ্যে একটি সাধারণ প্রবণতা হলো স্টিয়ারিংয়ের খুব কাছে বসে থাকা, যা আপনার হাত চলাচলের স্বাধীনতা কমিয়ে দেয়। একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে বসুন যাতে আপনার পা পেডালগুলোতে সহজে পৌঁছাতে পারে। ২০২৬ সালের আধুনিক গাড়িগুলোতে সেন্সর প্রযুক্তি থাকলেও আপনাকে নিজের চোখের ওপর ভরসা রাখতে হবে। এই প্রাথমিক বিষয়গুলো আয়ত্ত করলে আপনার ড্রাইভিং শেখা (Learning driving) অনেক সহজ হয়ে যাবে।
২. বিআরটিএ লার্নার লাইসেন্স আবেদন পদ্ধতি
আপনি যদি আইনত বাংলাদেশে গাড়ি চালানো (Driving) শিখতে চান, তবে সবার আগে আপনার একটি লার্নার লাইসেন্স প্রয়োজন। ২০২৬ সালে বিআরটিএ লার্নার লাইসেন্স আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হয়েছে। আপনাকে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে (BSP) একটি অ্যাকাউন্ট খুলে আপনার এনআইডি এবং মেডিকেল সার্টিফিকেটের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। আবেদন ফি জমা দেওয়ার পর আপনি একটি লার্নার পারমিট পাবেন যা দিয়ে আপনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রশিক্ষকসহ রাস্তায় গাড়ি চালাতে পারবেন। এটি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার প্রথম ধাপ।
অনেকেই মনে করেন লার্নার লাইসেন্স ছাড়া খালি জায়গায় প্র্যাকটিস করা যায়, কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে এটি নিরুৎসাহিত করি। আইন ভঙ্গ করে কার ড্রাইভিং (Car driving) শেখা শুরু করলে ভবিষ্যতে বড় বিপদে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর আপনার কাজ হলো একজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক খুঁজে বের করা। মনে রাখবেন, লার্নার লাইসেন্সের মেয়াদ থাকে ছয় মাস, এই সময়ের মধ্যেই আপনাকে ড্রাইভিং পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স করার পদ্ধতি বাংলাদেশ এখন অনেক স্বচ্ছ এবং আধুনিক হয়েছে।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
বিআরটিএ লার্নার আবেদনের জন্য আপনার এনআইডি কার্ডের কপি, ইউটিলিটি বিলের কপি (ঠিকানা প্রমাণের জন্য), পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তারের কাছ থেকে মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট লাগবে। এই সব কিছু অনলাইনে আপলোড করলেই কাজ হয়ে যাবে।
| ধাপসমূহ | প্রয়োজনীয় সময় | আনুমানিক সরকারি ফি (টাকা) |
|---|---|---|
| লার্নার লাইসেন্স আবেদন | ১ দিন (অনলাইন) | ৫০০ - ৮০০ |
| ড্রাইভিং পরীক্ষা (ফিল্ড) | ২-৩ মাস পর | ৩,০০০ - ৫,০০০ |
| স্মার্ট কার্ড লাইসেন্স | পরীক্ষার ১-৩ মাস পর | ৪,৫০০ - ৫,৫০০ |
৩. অটো গিয়ার গাড়ি চালানোর নিয়ম
বর্তমানে বাংলাদেশের শহরে অটো গিয়ার গাড়ি চালানোর নিয়ম জানা অত্যন্ত জরুরি কারণ বেশিরভাগ আধুনিক গাড়িই অটোমেটিক। অটো গিয়ার গাড়িতে সাধারণত দুটি পেডাল থাকে—ডান দিকে এক্সিলারেটর এবং বাম দিকে ব্রেক। এখানে ক্লাচ ব্যবহারের ঝামেলা নেই, তাই নতুনদের জন্য এটি অনেক সহজ। গিয়ার লিভারে সাধারণত P (Park), R (Reverse), N (Neutral), এবং D (Drive) অপশন থাকে। আমি সবসময় বলি, অটো গিয়ার গাড়িতে বাম পা একদমই ব্যবহার করবেন না, কারণ এটি আপনাকে ভুল করে ব্রেক চাপতে প্ররোচিত করতে পারে।
গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার সময় ব্রেক পেডাল চেপে ধরে গিয়ার D-তে দিতে হয় এবং ধীরে ধীরে ব্রেক ছাড়লে গাড়ি চলতে শুরু করে। ২০২৬ সালের হাইব্রিড বা ইলেকট্রিক গাড়িগুলোতে এই প্রক্রিয়া আরও স্মুথ হয়েছে। আপনি যদি জ্যামে থাকেন, তবে অটো গিয়ার গাড়ি আপনাকে অনেক স্বস্তি দেবে। তবে মনে রাখবেন, সহজে গাড়ি চালানো শেখার উপায় হলো কন্ট্রোল বজায় রাখা। গতি বাড়ানোর জন্য হুট করে এক্সিলারেটর না চেপে ধীরে ধীরে চাপ দিন। অটো গিয়ারের ক্ষেত্রে 'Creep Function' ব্যবহার করে জ্যামে ধীরে চলা শিখুন।
গিয়ার পজিশনগুলোর অর্থ
P মানে পার্কিং, যখন গাড়ি সম্পূর্ণ স্থির থাকে। R দিয়ে পেছনে যাওয়া হয়। N মানে নিউট্রাল, যখন ইঞ্জিন থেকে চাকায় পাওয়ার যায় না। D হলো ড্রাইভ মোড, যা সামনের দিকে চলার জন্য প্রধান গিয়ার।
৪. ম্যানুয়াল গিয়ার গাড়ি চালানোর নিয়ম
অনেকে মনে করেন ম্যানুয়াল গিয়ার শেখা কঠিন, কিন্তু আমি বলি এটিই প্রকৃত ড্রাইভিং শেখার ভিত্তি। ম্যানুয়াল গিয়ার গাড়ি চালানোর নিয়ম আয়ত্ত করতে পারলে আপনি যেকোনো গাড়ি চালাতে পারবেন। এখানে তিনটি পেডাল থাকে—বামে ক্লাচ, মাঝে ব্রেক এবং ডানে এক্সিলারেটর। স্টার্ট দেওয়ার সময় ক্লাচ পুরোপুরি চেপে ধরে ১ নম্বর গিয়ারে দিতে হয় এবং ধীরে ধীরে ক্লাচ ছাড়ার সাথে সাথে সামান্য এক্সিলারেটর দিতে হয়। একে বলা হয় 'Biting Point' ধরা, যা শিখতে একটু সময় লাগতে পারে।
ম্যানুয়াল গাড়িতে গিয়ার পরিবর্তন করার সময় সবসময় ক্লাচ ব্যবহার করতে হবে। আপনি যদি সঠিক সময়ে গিয়ার পরিবর্তন না করেন, তবে ইঞ্জিনে শব্দ হবে এবং তেলের খরচ বাড়বে। ২০২৬ সালেও কমার্শিয়াল বা পাহাড়ি এলাকায় ম্যানুয়াল গাড়ির জনপ্রিয়তা কমেনি। তাই আপনার ড্রাইভিং শেখা (Learning driving) সম্পূর্ণ করতে ম্যানুয়াল গিয়ারে হাত পাকানো বুদ্ধিমানের কাজ। আমার অভিজ্ঞতা বলে, একবার যদি আপনি ক্লাচ এবং এক্সিলারেটরের ব্যালেন্স বুঝে যান, তবে গাড়ি চালানো (Driving) আপনার কাছে পানির মতো সহজ মনে হবে।
৫. ট্রাফিক সিগন্যাল ও রাস্তার নিয়মাবলী
গাড়ি চালানো শেখার চেয়েও কঠিন কাজ হলো আইন মেনে চলা। ট্রাফিক সিগন্যাল ও রাস্তার নিয়মাবলী সঠিকভাবে না জানলে আপনি দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারেন। লাল মানে থামা, হলুদ মানে থামার প্রস্তুতি এবং সবুজ মানে চলা—এই প্রাথমিক জ্ঞান সবার থাকলেও রাস্তার সাইন বোর্ডগুলোর অর্থ অনেকেই জানেন না। যেমন—'No Overtaking' বা 'One Way' সাইনগুলো খেয়াল করা আপনার নিরাপত্তার জন্য জরুরি। আমি সবসময় পরামর্শ দিই, হাইওয়েতে চলার সময় বড় বড় ট্রাক বা বাসের সাথে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।
রাস্তায় লেন পরিবর্তন করার সময় ইন্ডিকেটর ব্যবহার করা একটি বাধ্যতামূলক গাড়ি চালানোর নিয়ম (Rules of car driving)। আপনি যদি ডান দিকে যেতে চান, তবে কমপক্ষে ৩০ সেকেন্ড আগে ইন্ডিকেটর দিয়ে পেছনের গাড়িকে সংকেত দিন। জংশন বা ইন্টারসেকশনে অগ্রাধিকার কাকে দিতে হবে তা জানাও একজন দক্ষ চালকের গুণ। ২০২৬ সালে অনেক ট্রাফিক সিগন্যাল এখন এআই (AI) নিয়ন্ত্রিত, তাই সঠিক লাইনের বাইরে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বা সিগন্যাল অমান্য করা থেকে বিরত থাকুন। আইন মেনে চলা আপনাকে এবং অন্যকেও নিরাপদ রাখে।
৬. সহজে গাড়ি চালানো শেখার উপায় ও টিপস
আপনি যদি সহজে গাড়ি চালানো শেখার উপায় খুঁজছেন, তবে আমি বলব নিয়মিত প্র্যাকটিসের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা ফাঁকা রাস্তায় বা ড্রাইভওয়েতে গাড়ি নিয়ে বের হন। শুরুতে শুধু স্টার্ট দেওয়া, সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া এবং ব্রেক করা শিখুন। এরপর রিভার্স বা পেছনে যাওয়া প্র্যাকটিস করুন। আমি দেখেছি, নতুন ড্রাইভাররা পেছনে যাওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। তাই বড় কোনো ফাঁকা মাঠে কিছু বাধা (যেমন পানির বোতল) রেখে সেগুলোর চারপাশ দিয়ে ঘোরানোর অভ্যাস করুন।
আরেকটি কার্যকরী টিপস হলো অভিজ্ঞ কারো সাথে ড্রাইভ করা। তবে মনে রাখবেন, সেই ব্যক্তি যেন আপনাকে ধমক না দিয়ে ধৈর্য ধরে শিখিয়ে দেয়। গাড়ি চালানোর সময় নার্ভাস হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু শান্ত থাকাটা বেশি জরুরি। গাড়ি চালানোর প্রাথমিক ধারণা পাওয়ার পর আপনি বিভিন্ন অনলাইন টিউটোরিয়াল বা ইউটিউব ভিডিও দেখতে পারেন। ২০২৬ সালে অনেক ড্রাইভিং সিমুলেটর গেমও বের হয়েছে যা আপনাকে বাস্তবে গাড়ি নামানোর আগে মানসিক প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করবে। আপনি যত বেশি স্টিয়ারিংয়ে সময় দেবেন, তত দ্রুত আপনার ভয় কাটবে।
প্যারালাল পার্কিং আয়ত্ত করা
পার্কিং করা অনেকের কাছেই ভীতিজনক। রিভার্স ক্যামেরা বা সেন্সর থাকলেও নিজের চোখের হিসাব থাকা জরুরি। পার্কিং করার সময় লুকিং গ্লাস এবং পেছনের কাঁচের সঠিক ব্যবহার শিখুন।
৭. নতুনদের জন্য বিশেষ ড্রাইভিং টিপস
আমি যখন প্রথম গাড়ি চালানো শুরু করি, তখন আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আত্মবিশ্বাসই হলো আসল চাবিকাঠি। নতুনদের জন্য ড্রাইভিং টিপস হিসেবে আমি বলব, সব সময় লুকিং গ্লাসে নজর রাখুন। প্রতি ১০-১৫ সেকেন্ড অন্তর দুই পাশের আয়না এবং পেছনের আয়না চেক করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে আপনি আপনার চারপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকবেন। এছাড়া জুতোর দিকেও খেয়াল রাখুন; সবসময় হালকা এবং আরামদায়ক ফ্ল্যাট জুতো পরে ড্রাইভ করুন যাতে পেডালের চাপ আপনি অনুভব করতে পারেন।
ভারী হিল বা জুতো পরে গাড়ি চালানো (Driving) বিপজ্জনক হতে পারে। রাস্তার পরিস্থিতি বুঝে গতির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি। নতুন অবস্থায় খুব দ্রুত গতিতে না যাওয়াই ভালো। এছাড়া বৃষ্টির দিনে বা রাতে ড্রাইভ করার সময় বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। বৃষ্টির রাস্তায় চাকা পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই ব্রেক করার সময় সতর্ক থাকুন। সহজে গাড়ি চালানো শেখার উপায় হলো আপনার জড়তা কাটিয়ে ওঠা। মনে রাখবেন, আজকের প্রতিটি দক্ষ ড্রাইভারই একদিন আপনার মতো নতুন ছিল।
৮. ড্রাইভিং লাইসেন্স করার পদ্ধতি বাংলাদেশ
ড্রাইভিং শেখা শেষ হলে আপনার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো একটি স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করা। ড্রাইভিং লাইসেন্স করার পদ্ধতি বাংলাদেশ ২০২৬ সালে আরও স্বচ্ছ হয়েছে। লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার কয়েক মাস পর আপনাকে একটি লিখিত, মৌখিক এবং ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় ট্রাফিক সাইন এবং সাধারণ মেকানিক্যাল প্রশ্ন থাকে। মৌখিক পরীক্ষায় আপনাকে রাস্তার আইন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। আর ব্যবহারিক পরীক্ষায় আপনাকে 'Z' ট্র্যাক বা প্যারালাল পার্কিং করে দেখাতে হবে।
এই পরীক্ষায় পাস করার পর আপনাকে লাইসেন্স ফি জমা দিতে হবে এবং বায়োমেট্রিক (ছবি ও আঙুলের ছাপ) দিতে হবে। বর্তমানে ই-লাইসেন্স বা ডিজিটাল কপি সাথে সাথেই পাওয়া যায়, যা দিয়ে আপনি সাময়িকভাবে গাড়ি চালাতে পারবেন। অরিজিনাল স্মার্ট কার্ড ডাকযোগে আপনার ঠিকানায় পৌঁছে যাবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving license) ছাড়া গাড়ি চালানো একটি দণ্ডনীয় অপরাধ, যার ফলে জেল বা জরিমানা হতে পারে। তাই নিয়ম মেনে লাইসেন্সটি সংগ্রহ করুন এবং গর্বের সাথে ড্রাইভ করুন।
- গাড়ি চালানোর আগে লার্নার লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক।
- অটো গিয়ার নতুনদের জন্য সহজ, কিন্তু ম্যানুয়াল গিয়ার দক্ষতা বাড়ায়।
- ট্রাফিক সিগন্যাল ও রাস্তার নিয়ম মানা জীবনের নিরাপত্তার জন্য জরুরি।
- নিয়মিত প্র্যাকটিস এবং লুকিং গ্লাসের সঠিক ব্যবহার দ্রুত ড্রাইভিং শেখায়।
- ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য লিখিত ও ব্যবহারিক উভয় পরীক্ষায় পাস করতে হয়।
৯. ড্রাইভিং শেখা: প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার গাইড
আমি দেখেছি অনেকেই লিখিত পরীক্ষায় ভালো করলেও ব্যবহারিক বা ফিল্ড টেস্টে ফেইল করেন। এর প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত নার্ভাসনেস। পরীক্ষার সময় ইন্সপেক্টর খেয়াল করেন আপনি সিটবেল্ট বাঁধছেন কিনা এবং গ্লাস অ্যাডজাস্ট করছেন কিনা। গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার আগে ইন্ডিকেটর দেওয়া এবং লুকিং গ্লাস চেক করা জরুরি। পরীক্ষায় সাধারণত সোজা চালানো, পেছনে যাওয়া এবং ইংরেজি বর্ণ 'S' বা 'Z' এর মতো আঁকাবাঁকা পথে গাড়ি চালানো থাকে। এই প্রতিটি ধাপে আপনার স্টিয়ারিং কন্ট্রোল চেক করা হয়।
প্যারালাল পার্কিং করার সময় ডিভাইডারে চাকা লেগে গেলে আপনি ফেইল হতে পারেন। তাই ড্রাইভিং শেখা (Learning driving) চলাকালীন এই ট্রিকি জায়গাগুলো বেশি বেশি প্র্যাকটিস করুন। ২০২৬ সালে অনেক সেন্টারে সেন্সরযুক্ত ট্র্যাক ব্যবহার করা হচ্ছে, তাই খুব সূক্ষ্মভাবে গাড়ি কন্ট্রোল করতে হবে। ভয় পাবেন না, আপনি যদি নিয়মিত প্র্যাকটিস করে থাকেন, তবে এটি আপনার কাছে কোনো কঠিন কাজ হবে না। পরীক্ষার দিন শান্ত থাকুন এবং ইন্সপেক্টরের নির্দেশনাগুলো মন দিয়ে শুনুন। আপনার শক্ত মনোবল আপনাকে পাস করতে সাহায্য করবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. গাড়ি চালানো শেখার জন্য কতদিন সময় লাগে?
এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার শেখার আগ্রহ এবং প্র্যাকটিসের ওপর। আমি মনে করি, একজন নতুন শিক্ষার্থী যদি প্রতিদিন ১ ঘণ্টা করে সময় দেন, তবে ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তিনি গাড়ি চালানোর মৌলিক বিষয়গুলো আয়ত্ত করতে পারেন। তবে শহরের ট্রাফিকে আত্মবিশ্বাসের সাথে ড্রাইভ করতে আরও মাসখানেক সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। অটো গিয়ার শেখা কিছুটা দ্রুত হয়, কিন্তু ম্যানুয়াল গিয়ারে হাত পাকানো পর্যন্ত অন্তত ২ মাস নিয়মিত প্র্যাকটিস করা উচিত। ধৈর্য ধরুন, তাড়াহুড়ো করবেন না।
২. ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে শাস্তি কী?
ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো বাংলাদেশের ট্রাফিক আইনে একটি গুরুতর অপরাধ। সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে বড় অংকের জরিমানা এবং অনেক ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া লাইসেন্স না থাকলে কোনো সড়ক দুর্ঘটনায় পড়লে আপনি আইনি সহায়তা বা ইন্স্যুরেন্স সুবিধা পাবেন না। তাই আমি সবসময় পরামর্শ দিই, রাস্তায় গাড়ি নামানোর আগে অবশ্যই লার্নার পারমিট বা পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স সংগ্রহ করুন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা একজন সুনাগরিকের প্রধান দায়িত্ব।
৩. ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষায় কী ধরণের প্রশ্ন আসে?
বিআরটিএ-র লিখিত পরীক্ষায় মূলত তিনটি বিষয় থেকে প্রশ্ন আসে—রাস্তার ট্রাফিক সাইন, ট্রাফিক আইন এবং গাড়ির সাধারণ মেকানিক্যাল নলেজ। যেমন—রাস্তায় লাল বৃত্তের মাঝে হরিন চিহ্ন থাকলে কী বুঝায়? অথবা ইঞ্জিন গরম হয়ে গেলে আপনার করণীয় কী? এই প্রশ্নগুলো বেশ সহজ হয় যদি আপনি বিআরটিএ-র গাইড বই বা অনলাইন প্রশ্ন ব্যাংকগুলো একবার পড়ে নেন। বর্তমানে ২০২৬ সালে এই পরীক্ষাগুলো এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে কম্পিউটারে নেওয়া হয়, তাই প্রস্তুতি থাকলে পাস করা সহজ হয়।
৪. অটো গিয়ার না ম্যানুয়াল—কোনটি শেখা ভালো?
আমি সবসময় পরামর্শ দিই আগে ম্যানুয়াল গিয়ার দিয়ে ড্রাইভিং শেখার। কারণ আপনি যদি ম্যানুয়াল গিয়ার আয়ত্ত করতে পারেন, তবে বিশ্বের যেকোনো গাড়ি আপনি সহজে চালাতে পারবেন। ম্যানুয়াল গিয়ার শিখলে গাড়ির মেকানিজম এবং ইঞ্জিনের পাওয়ার সম্পর্কে আপনার গভীর জ্ঞান তৈরি হবে। তবে আপনি যদি শুধু ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য দ্রুত গাড়ি শিখতে চান এবং ভবিষ্যতে শুধু অটো গাড়িই চালাবেন বলে মনে করেন, তবে সরাসরি অটো গিয়ার দিয়ে শুরু করতে পারেন। বর্তমানে বাজারে অটো গিয়ারের গাড়ির সংখ্যাই বেশি।
৫. লার্নার লাইসেন্স থাকা অবস্থায় কি একাকী গাড়ি চালানো যায়?
না, লার্নার লাইসেন্স নিয়ে একাকী গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ বেআইনি। লার্নার পারমিটের প্রধান শর্ত হলো গাড়ি চালানোর সময় আপনার পাশে অবশ্যই একজন লাইসেন্সধারী ড্রাইভার বা প্রশিক্ষক থাকতে হবে। এছাড়া গাড়ির সামনে এবং পেছনে ইংরেজি বর্ণ 'L' (Learner) লিখে রাখতে হবে যাতে অন্য চালকরা বুঝতে পারেন আপনি শিখছেন। একাকী গাড়ি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটলে বা ধরা পড়লে আপনার লার্নার পারমিট বাতিল হতে পারে এবং আপনি ভবিষ্যতে লাইসেন্স পাওয়ার অযোগ্য হতে পারেন। তাই সবসময় নিয়ম মেনে প্র্যাকটিস করুন।
উপসংহার
পরিশেষে বলতে চাই, গাড়ি চালানো (Driving) একটি লাইফ স্কিল যা আপনার জীবনকে অনেক সহজ করে দিতে পারে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে গাড়ি শেখার পদ্ধতি এখন অনেক বেশি আধুনিক এবং সহজলভ্য। আমার দেওয়া এই গাইডটি অনুসরণ করলে আপনি যেমন দ্রুত ড্রাইভিং শিখতে পারবেন, তেমনি একজন দায়িত্বশীল চালক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবেন। সবসময় মনে রাখবেন, রাস্তার নিরাপত্তা আপনার হাতে। নিয়ম মেনে ড্রাইভ করুন এবং অন্যদেরও উৎসাহিত করুন। গাড়ি কেনা বা ড্রাইভিং সংক্রান্ত আরও তথ্যের জন্য সবসময় CarSell.com.bd এর সাথেই থাকুন। আপনার ড্রাইভিং জার্নি আনন্দদায়ক ও নিরাপদ হোক!